১) ' ইন্ডিয়া ' নামটি কীভাবে এসেছে ?
= গ্রীক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস ' ইন্ডিয়া ' শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ -পঞ্চম শতকে। তিনি ভারত সম্পর্কে প্রথম জেনেছিলেন পারসিক লেখা থেকে। পারসিক সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল সিন্ধু নদের ব দ্বীপ অঞ্চল। তাই পারসিকরা এই অঞ্চলের নাম দিয়েছিলেন ' হিদুষ '। ' স ' - এর উচ্চারণ ইরানি ভাষায় নেই। তাই ' স ' বদলে ' হ ' করা হয়েছে।' হিদুষ ' বলা হয় সিন্ধু বিধৌত অঞ্চলকেই। আবার ' হ ' - এর উচ্চারণ গ্রিক বর্ণমালায় নেই । তা বদলে ' ই ' করা হয়েছে। তবে সেই যুগে সিন্ধুর বদ্বীপ এলাকাকেই ' ইন্ডিয়া ' বলা হয়। তাই তাঁরা বলেন যে ইন্ডিয়া বলতে উপমহাদেশকেই বোঝায়।
২) ইতিহাসে আদি - মধ্যযুগ বলতে কী বোঝায় ?
= কোনো একদিন হঠাৎ করে কোনো ইতিহাসের যুগ পালটে যায় না। তাই দুপুরবেলা বলতে দুপুরকেই বোঝায় এবং সকাল বলতে সকালকেই বোঝায়। ভারতের ইতিহাসে ওমন একটা সময় ছিল যখন প্রাচীন যুগ ধীরে ধীরে শেষ হয়ে আসছে ও মধ্যযুগও তখন পুরোপুরি শুরু হয়নি সেই সময়টাকেই ঐতিহাসিকরা আদি - মধ্যযুগ বলে অভিহিত করেছেন।
৩) ইতিহাস বইতে সামান্য হলেও সাল - তারিখ থাকে কেন ?
= ইতিহাসে যেসব ঘটনার কথা উল্লেলিখিত রয়েছে সেগুলি অনেক বছর আগের ঘটনা এবং এইসব ঘটনাগুলি একই দিনে ঘটেনি। তাই ঐতিহাসিক ঘটনা গুলিকে ঠিক ভাবে সাজাতে গেলে সাল ও তারিখের প্রয়োজন।
৪) হিন্দুস্থান শব্দটি কিভাবে পরিচিত হয়েছে ?
= ' হিন্দুস্থান ' শব্দটি বিদেশী তথ্যসূত্রে পাওয়া গেছে। হিন্দুস্থান কথাটি আরবি ভাষায় উল্লেখিত আছে। এই শব্দটির সঙ্গে আমরা পরিচিত হই ২৬২ খ্রিস্টাব্দে খোদিত সাসানীয় শাসকের কাছে একটি শিলালিপি থেকে। সিন্ধুনদীর বদ্বীপ অঞ্চলকেই হিন্দুস্থান বলা হয়। এক অজ্ঞাতনামা লেখক ' হুদুদ অল আলম ' গ্রন্থে সমগ্র ভারতকে হিন্দুস্থান হিসাবে চিহ্নিত করেছেন।
৫) ইতিহাসের উপাদান গুলি ভাগে বিভক্ত কেন ?
= ইতিহাসে একরকমের উপাদান হয় না। তাই একটি পুরোনো বই, পুরোনো মুদ্রা এক জিনিস হয় না। ইতিহাসের উপাদান গুলিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়, তা হলো মুদ্রা, স্থাপত্য - ভাস্কর্য ও লিখিত উপাদান। পুরোনো দিনের কথা জানা যায় পাথর ও ধাতুর পাতের লেখা থেকে। সেগুলোকেই বলা হয় লেখ। তামার পাতে লেখাগুলোকে তাম্রলেখ বলা হয়, পাথরের উপর লেখাগুলিকে শিলালেখ বলে, কাগজের লেখাগুলোকে লিখিত উপাদান বলা হয়।
৬) বিদেশি ভাষা বলতে কি বোঝায় ?
= বিদেশি বলতে ভারতের বাইরের দেশের লোকদের বোঝানো হয়। মুঘল যুগে শহর বা গ্রামের বাইরে থেকে আসা যে-কোনো লোককেই বিদেশি বলা হয়। শহর থেকে আসা যে কোনো অচেনা ব্যক্তিই ' আজনবি ' বা 'পরদেশি' বলা হয়। তবে পরদেশি কথাটি ভারতের বাইরে থেকে আসা যে - কোনো লোক কে বোঝানো হয় না।
৭) ঐতিহাসিকদের গোয়েন্দা বলা হয় কেন ?
= ঐতিহাসিকরা নানান তথ্য খুঁজে বের করে তা যুক্তি দিয়ে বিচার করেন তারপর এইসব তথ্য গুলি সাজিয়ে নিয়ে অনেক আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রকাশ করেন। গোয়েন্দারা কোনো গল্পের তথ্য গুলিকে সাজিয়ে নিয়ে যুক্তি দিয়ে তাঁর ঠিক - ভুল বিচার করে সেই ঘটনার সত্য বা মিথ্যা প্রকাশ করেন। তাই ঐতিহাসিক দের গোয়েন্দা বলা হয়।
৮) প্রাচীন ইতিহাসে স্থাপত্য - ভাস্কর্যের গুরুত্ব কি ?
= প্রাচীনকালের তৈরী দালান - প্রাসাদ, ঘর বাড়ি ইত্যাদি প্রত্নতাত্ত্বিকখননের ফলে আবিষ্কৃত হয়েছিল মাটির নীচ থেকে। এছাড়া পাওয়া গেছে অজন্তা - ইলোরার স্থাপত্য - ভাস্কর্য। পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হলো , বসিরহাটের কাছে বেড়াচাপাতে চন্দ্রকেতুগড়, অজয় নদীর তীরে পান্ডু রাজার ঢিবি, তোরণ দ্বার, সাঁচি স্তূপ ইত্যাদি। এছাড়া অত্যন্ত সুন্দর স্থাপত্য - ভাস্কর্য ছিল গান্ধার শিল্প।
৯) ভারতের লেখযুগের সূচনাকারী কাকে বলে ?
= মৌর্য সম্রাট অশোককেই ভারতের লেখযুগের সূচনাকারী বলা হয়। স্যার জন প্রিন্সেপ পাঠোদ্ধার করেছিলেন অশোকের লেখ - র। ব্রাহ্মীলিপিতে লেখা অশোকের লেখাগুলি দীর্ঘকাল ধরে বনজঙ্গলের মধ্যে পড়েছিল। গুপ্তসম্রাট সমুদ্রগুপ্তের বিজয় কাহিনী খোদিত রয়েছে এলাহাবাদের এক স্তম্ভের গায়ে।
১০) ঐতিহাসিক জটিল নাম গুলো নিয়ে কেন দুশ্চিন্তা থেকে যায় ?
= ইতিহাসে এমন অনেক উপাধি বা নাম থাকে যা মনে রাখা খুবই জটিল। যেমন '' সকলোত্তরপথনাথ " ও " গঙ্গাইকোন্ডচোল "। যেসব মানুষের এসব নাম বা উপাধি ছিল তাঁরা খুব গন্ডগোলে পড়তেন। কিন্তু সেইসময় ওইসব নাম ও উপাধির খুব চল ছিল । তবে সেইসব নামগুলিকে পাল্টানোর আর কোনো উপায় নেই।
পরবর্তী অংশে আসবে MCQ
লক্ষ্য রাখুন
আমার ব্লগে
ধন্যবাদ

Post a Comment