সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীদের জন্য প্রবন্ধ রচনার সিরিজ ।

 

সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীদের জন্য প্রবন্ধ রচনার সিরিজ 

প্রবন্ধ রচনা : (১) পরিবেশ রক্ষায় ছাত্র ছাত্রীদের ভূমিকা

আমাদের চারপাশের সবকিছু নিয়েই তৈরি হয় পরিবেশ। গাছপালা, পশু পাখি, মাটি, জল, আলো, বাতাস – এই সবই পরিবেশের অংশ। এই সুন্দর পৃথিবী আমাদের বাঁচতে সাহায্য করে। কিন্তু আজকাল নানা কারণে আমাদের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এই দূষণ আমাদের সকলের জন্যই ক্ষতিকর। তাই পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের সকলেরই দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ব পালনে ছাত্র ছাত্রীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

ছাত্র জীবন হলো শেখার সময়। এই সময়ে পরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা খুব জরুরি। পরিবেশ কীভাবে কাজ করে, দূষণের কারণ ও ফলাফল কী – এই সমস্ত বিষয় জেনে আমরা সচেতন হতে পারি। শুধু নিজেরা জানলেই হবে না, অন্যদেরকেও এই বিষয়ে জানাতে হবে। বন্ধুদের সাথে আলোচনা করে, বাড়িতে বাবা মায়ের সাথে কথা বলে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব বোঝানো যেতে পারে।

বিদ্যালয় হলো পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। স্কুলের বাগান তৈরি ও পরিচর্যা করার মাধ্যমে ছাত্র ছাত্রীরা প্রকৃতির কাছাকাছি আসতে পারে। গাছের গুরুত্ব বুঝতে পারে। এছাড়া, বিদ্যালয় এবং তার আসপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও আমাদের। যেখানে সেখানে কাগজ বা অন্য আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা উচিত।

প্লাস্টিক দূষণ পরিবেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। ছাত্র ছাত্রীরা এই বিষয়ে সচেতন হতে পারে এবং অন্যদেরও সচেতন করতে পারে। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, যেমন – পলিথিনের ব্যাগের বদলে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করা, একবার ব্যবহার করা যায় এমন প্লাস্টিকের জিনিসপত্র বর্জন করা – এই ছোট ছোট কাজগুলোও পরিবেশ রক্ষায় অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

জল আমাদের জীবনের জন্য অপরিহার্য। জলের অপচয় রোধ করা আমাদের কর্তব্য। অপ্রয়োজনে কল খুলে না রাখা, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করা – এই অভ্যাসগুলো আমাদের গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যুতের অপচয় রোধ করাও পরিবেশ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আলো ও পাখা যখন প্রয়োজন নেই তখন বন্ধ করে রাখা উচিত।

এছাড়াও, ছাত্র ছাত্রীরা পরিবেশ রক্ষার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারে। বৃক্ষরোপণ অভিযানে অংশ নেওয়া, পরিবেশ সচেতনতামূলক শোভাযাত্রায় যোগ দেওয়া, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সাহায্য করা – এই সমস্ত কাজ পরিবেশের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দেয়।

মনে রাখতে হবে, ছোট ছোট পদক্ষেপই একদিন বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ছাত্র ছাত্রীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই এখন থেকেই পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব বুঝে নিজেদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলা এবং অন্যদের উৎসাহিত করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা যদি সকলে মিলে চেষ্টা করি, তবেই আমাদের এই সুন্দর পৃথিবী সুস্থ ও সবুজ থাকবে।


২) প্রাত্যহিক জীবনে খেলাধুলার ভূমিকা


খেলাধুলা আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত, প্রতিটি স্তরেই খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাত্যহিক জীবনে খেলাধুলা কেবল বিনোদনের উৎস নয়, এটি আমাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে খেলাধুলার অবদান অনস্বীকার্য। নিয়মিত খেলাধুলা আমাদের শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে সচল রাখে, যা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়ক। খেলাধুলার মাধ্যমে আমাদের পেশী শক্তিশালী হয়, হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। সকালে বা সন্ধ্যায় কিছুক্ষণ খেলাধুলা করলে শরীর ঝরঝরে থাকে এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শিশুদের শারীরিক বিকাশে খেলাধুলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তাদের সঠিক অঙ্গবিন্যাস গঠনে এবং শারীরিক সক্ষমতা অর্জনে সাহায্য করে।

মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খেলাধুলা আমাদের মনকে প্রফুল্ল রাখে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। যখন আমরা খেলি, তখন আমাদের মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়, যা আমাদের আনন্দিত ও উৎফুল্ল করে তোলে। নিয়মিত খেলাধুলা দুশ্চিন্তা, হতাশা এবং ঘুমের অভাবের মতো সমস্যাগুলো কমাতে সহায়ক। পড়াশোনা বা কাজের একঘেয়েমি দূর করতে খেলাধুলা এক চমৎকার মাধ্যম। এটি আমাদের মনোযোগ বাড়াতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা উন্নত করতেও সাহায্য করে।

সামাজিক বিকাশেও খেলাধুলার গুরুত্ব কম নয়। দলবদ্ধভাবে খেলাধুলা করার সুযোগ পেলে আমরা সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জন করি। খেলার মাঠে আমরা একে অপরের সাথে মিশি, যা সামাজিক সম্পর্ককে দৃঢ় করে। জয়-পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়, যা জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। খেলাধুলা বিভিন্ন সংস্কৃতি ও মানুষের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি করতেও সহায়ক।

তবে, খেলাধুলার উপকারিতা পেতে হলে একে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে নেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে আমরা অনেকেই খেলাধুলাকে সময় দিতে পারি না। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপনের জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই। তাই প্রতিদিন কিছু সময় খেলাধুলার জন্য বের করা উচিত। সেটা হতে পারে বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট বা ফুটবল খেলা, অথবা একাকী দৌড়ানো বা সাইকেল চালানো। এমনকি হালকা যোগা বা কোনো শারীরিক ব্যায়ামও আমাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, প্রাত্যহিক জীবনে খেলাধুলা কেবল একটি অভ্যাস নয়, এটি একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবনের চাবিকাঠি। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং সামাজিক সম্পর্ক উন্নত করতে খেলাধুলার গুরুত্ব উপলব্ধি করা এবং এটিকে আমাদের দৈনন্দিন রুটিনের অংশ করা অপরিহার্য। আসুন, আমরা সবাই খেলাধুলাকে ভালোবাসি এবং আমাদের জীবনে এর গুরুত্বকে স্বীকার করি।


My telegram channel & Facebook page links

https://t.me/nigamnagaranupam

https://www.facebook.com/share/1AabTN5pao/


ধন্যবাদ

সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীদের জন্য নিয়ে একটি প্রবন্ধ রচনার সিরিজ শুরু করেছি। আশা করি এটি তোমাদের ভালো লাগবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post