বোঝা পড়া
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
![]() |
| Teachinghelp@am |
বিষয় সংক্ষেপ
জীবনে ভালােমন্দ যাই আসুক না কেন, সত্য মনে করে তাকে সহজে গ্রহণ করতে হবে। কেউ তােমাকে ভালােবাসবে, কেউ বাসবে না—এটিই স্বাভাবিক। ব্যাপারটি নিজের ক্ষেত্রেও ঠিক। এটিই স্বাভাবিক যে, সবাই সবার জন্য নয়। আমরা একে অন্যকে ফাঁকি দিই। সুতরাং কোটি কার ভাগে আছে, কেউ জানে না। প্রাচীন কাল থেকে এটিই চলে আসছে। কেউ আঘাত বাঁচিয়ে চলতে পারে না। সুতরাং, সত্যকে সহজভাবে মেনে নেওয়াই ভালাে।
জীবনে বহু ঝড়-ঝঞ্জা পেরিয়ে সুখ পাওয়া যায়। কোথায়, কীভাবে আঘাত আসে কেউ বলতে পারে না। অপ্রত্যাশিত আঘাতে বুকের পাঁজর ভাঙতে পারে, আর্তনাদে আকাশবাতাস মুখর হতে পারে, কিন্তু তাই নিয়ে বিবাদ চলে না। বরং সমস্ত কিছু সহ্য করে টিকে থাকাই শ্রেয়, অন্যথায় সমূহ বিপদ আসতে পারে। সামান্য ঘটনাই তখন মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।
জগতে কেউ কারও মতাে নয়, প্রত্যেকেই আলাদা। তবু একে অন্যকে পিছনে ফেলে এগােতে চায়। অথচ হাত বাড়ালেই বন্ধু পাওয়া যায়। পাওয়া যায় পরম সুখ। সর্বাবস্থায় আকাশ সুনীল থাকে, ভােরের আলাে মধুর হয়, এমনকি সহসা মরণ এলে, জীবনে বাঁচার ইচ্ছাই প্রবল হয়। যাকে ছাড়া জীবন শূন্য বলে মনে হয়, প্রকৃতপক্ষে তাকে ছাড়াও পৃথিবী মনােরম।
সুতরাং, দুঃখ-ভারাক্রান্ত মনে থাকা ঠিক নয়। সুন্দরের সঙ্গে বিবাদ করলে নিজেকে আঘাত করা হয়। মনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সুন্দরের সন্ধান করাই জীবনের সাধনা। দুঃখের প্রদীপ জ্বালিয়েই আলোর সন্ধানে বের হতে হয।সেটিই আসল, সেখানেই স্বাতন্ত্র্য।তা না হলে ভালোমন্দের কোনও তফাৎ থাকতো না।মনকে তাই বোঝাতে হবে,ভালোমন্দ যা-ই আসুক সহজভাবে সব কিছু গ্রহণ করতে হবে,কবির ভাষায় ----"ভালো মন্দ যাহাই আসুক / সত্যেরে লও সহজে।
নামকরণ
“নামকে যাহারা নামমাত্র বলিয়া মনে করেন, আমি তাহাদের দলে নই” প্রকৃতপক্ষেই রবীন্দ্রনাথ নামকরণের বিশেষত্বে বিশ্বাসী। তাই তিনি স্বয়ংই আলােচ্য কবিতাটির নামকরণ করেছেন ‘বােঝাপড়া। মনই আমাদের পরিচালক, তাই আমাদের আচরণের মধ্য দিয়েই মনের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। প্রদত্ত কবিতায় সেই মনের সঙ্গে মানুষের বােঝাপড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন কবি।
বিপর্যস্ত সময় আমাদের মনকে দুর্বল করে, বিপথে চালনা করে। কিন্তু কবি চেয়েছেন, দুঃখের ঘূর্ণিঝড়েও আমাদের মনকে বােঝাতে, যাতে মন সত্যের সরল শক্তিকে আঁকড়ে ধরে। তব চঞ্চলা মনের ধর্মই হল ক্ষুধা, তৃয়া ও ঘুমের মতাে ঈর্ষা, ফাঁকি, ঘৃণা প্রভৃতির আকর্ষণে সাড়া দেওয়া। অনাদর্শের হাতছানি, লােভের বাঁধনে মন বাঁধা পড়ে। তার মাঝেও মনের সঙ্গে আমাদের দ্বন্দ্ব করতে হবে, সত্যকে কোনাে মতেই অস্বীকার করা চলবে না। মনকে আরও বােঝাতে হবে, ভালােবাসার দরজা খুলে, বিভেদের প্রাচীর ভুলে, সংগ্রামের দ্রুত তালে তাকে হাঁটতে হবে। এইভাবে কবি আমাদের সামাজিক অবস্থায় মানসিক দ্বন্দ্বকে তুলে ধরেছেন। এই মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে সমাজ-বর্ণনা ও সত্যপ্রতিষ্ঠার বােঝাপড়া নামকরণটিকে সার্থক করে তুলেছে। অর্থাৎ, নামকরণটি ব্যঞ্জনাধর্মী হয়ে উঠেছে।
অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর এর জন্য পাঠ্য পুস্তক অনুসরণ করুন ।
কোনো প্রশ্ন উত্তর বুঝতে সমস্যা হলে কমেন্ট করে জানাবে সমাধান করে দেবো।

Post a Comment