‘চন্দ্রগুপ্ত’


  বিষয়সংক্ষেপ 

সিন্ধু নদেরতটে সন্ধ্যাকালে শিবিরের সামনে সেকেন্দার, সেলুকস ও তাঁর কন্যা হেলেন দণ্ডায়মান। গ্রিক সম্রাট সেকেন্দার বৈচিত্র্যময় ভারতবর্ষের ভূ-প্রকৃতি, নদনদী, বনরাজির সৌন্দর্য ব্যাখ্যায় মগ্ন। প্রসঙ্গক্রমে এই সবকিছু ছাড়িয়ে এক সৌম্য, গৌর, দীর্ঘ-কান্তি জাতির গৌরবে প্রশংসায় রত, যারা দীর্ঘদিন এই দেশ শাসন করছে। তাদের মুখে শিশুর সারল্য, দেহে বজের শক্তি, চোখে সূর্যের দীপ্তি, বুকে ঝড়ের সাহস। যখন রাজা পুরুকে বন্দি করে তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করেন তাঁর প্রতি কীরূপ আচরণ প্রত্যাশিত পুরু উত্তর দেন—“রাজার প্রতি রাজার আচরণ !
মহান সম্রাট তাঁর বীরত্ব ও সাহসের পরিচয় পেয়ে তাঁর রাজ্য ফিরিয়ে দেন। ম্যাসিডনের যে বিজয়বাহিনী অর্ধেক এশিয়া জয় করেছে, সেই বীরবাহিনী এই ভারতবর্ষের শতদ্রুতীরে প্রথমবার বাধা পেল। সেনাপতি সেলুকসকে দিগবিজয় অসম্পূর্ণ রাখার কারণ হিসেবে সেকেন্দার জানান ‘সে দিগবিজয় সম্পূর্ণ করতে হলে নূতন গ্রিক সৈন্য চাই। ইতিমধ্যে সেনাধ্যক্ষ আন্টিগােনস গুপ্তচর সন্দেহে মগধের রাজপুত্র চন্দ্রগুপ্তকে ধরে নিয়ে এলে সে জানায়, বহুদিন অবধি সেনাপতি সেলুকসের কাছ থেকে প্রাপ্ত যুদ্ধবিদ্যা তিনি লিপিবদ্ধ করছিলেন। চন্দ্রগুপ্ত তাঁর নিজের সিংহাসন পুনরুদ্ধার করার জন্য বৈমাত্রেয় ভাইয়ের অন্যায়ের প্রতিশােধ নিতে সে যুদ্ধ-কৌশল শিখছে।
বিশ্বাসঘাতক কে?—এই বিষয় নিয়ে সম্রাট সেকেন্দারের সামনেই সেলুকস ও আন্টিগােনস লড়াইয়ে লিপ্ত হলেন। আন্টিগােনসকে তাঁর অভব্য আচরণের জন্য নির্বাসিত করা হল। চন্দ্রগুপ্তের গুপ্তচর হয়ে প্রবেশ করার অপরাধে তাঁকে বন্দি করার কথা জানালে চন্দ্রগুপ্ত সম্রাট সেকেন্দারকে কাপুরুষ বলে বর্ণনা করেন এবং জানান, তাঁকে বধ না-করে বন্দি করতে পারবেন না। সম্রাট সেকেন্দার তাঁর বীরত্বের প্রশংসা করে তাঁকে হৃত রাজ্য পুনরুদ্ধার করার এবং দিগবিজয়ী হওয়ার ভবিষ্যদবাণী করেন। 

নামকরণ 

সাহিত্যে-শিল্প ক্ষেত্রে নামকরণের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। রচনার নামকরণের মাধ্যমে লেখক এক মুহূর্তেই পাঠকের মনে রচনাটির অন্তর্দেশের সংবাদ সম্পর্কে একটি ধারণা দেন। পাঠ্যের নাট্যাংশটি ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নামক মূল নাটকের একটি অংশমাত্র। মূল নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র চন্দ্রগুপ্ত। অন্তত নাটকের নামকরণে তারই ইঙ্গিত রয়েছে। নাটকের মূল বৃত্ত এবং সংযােজিত তিনটি উপবৃত্তই তা প্রমাণ করে। নাটকের প্রথম অংকের প্রথম দৃশ্যে চন্দ্রগুপ্তের শৌর্য, সাহসিকতা, উদ্যম সংকল্পের দৃঢ়তা অর্থাৎ কেন্দ্রীয় চরিত্র হওয়ার যােগ্যতা দেখানাে হয়েছে। এ ছাড়া মূল নাটকের পাঁচটি অঙ্কের ছাব্বিশটি দৃশ্যের মধ্যেও চন্দ্রগুপ্তেরই প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। সুতরাং, কেন্দ্রীয় চরিত্রের নামানুসারে আলোচ্য নাটকের নামকরণ 'চন্দ্রগুপ্ত' অবশ্যই সংগত এবং সার্থক হয়েছে বলা যায়।


হাতে কলমে 

১.১ দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কৃষিবিদ্যা শেখার জন্য কোথায় গিয়েছিলেন ?

উঃ দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কৃষিবিদ্যা শেখার জন্য বিলেতে গিয়েছিলেন। 

১.২ তাঁর রচিত দুটি নাটকের নাম লেখো। 

উঃ তাঁর রচিত দুটি নাটকের নাম হল - 'সাজাহান' ও 'চন্দ্রগুপ্ত'


২ নীচের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর একটি বাক্যে লেখাে :

২.১ নাট্যাংশটির ঘটনাস্থল ও সময় নির্দেশ করাে। 

উঃ দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাট্যাংশটির ঘটনাস্থল হল সিন্ধু নদীর তীরে অবস্থিত শিবিরের সম্মুখভাগ এবং সময় হল সন্ধ্যাকাল। 

২.২ নাট্যাংশে উল্লিখিত ‘হেলেন’ চরিত্রের পরিচয় দাও। 

উঃ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের রচিত ‘চন্দ্রগুপ্ত’ শীর্ষক নাট্যাংশে উল্লেখিত হেলেন হলেন ঐতিহাসিক চরিত্র সেলুকসএর কন্যা। হেলেনের সঙ্গে পরবর্তীকালে মৌর্যবংশের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্তের বিবাহ হয়েছিল। 

২.৩ ‘রাজার প্রতি রাজার আচরণ!-উদ্ধৃতাংশের বক্তা কে ? 
উঃ দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাট্যাংশ থেকে উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হল রাজা পুরু।

২.৪ “জগতে একটা কীর্তি রেখে যেতে চাই”—বক্তা কীভাবে এই কীর্তি রেখে যেতে চান ? । 
উঃ আলােচ্য উক্তিটির বক্তা ম্যাসিডনীয় সাম্রাজ্যের অধিপতি সেকেন্দার। তিনি বিচিত্র দেশ ভারতবর্ষের সৌম্য, গৌর, দীর্ঘকান্তি জাতির বৈচিত্র্যময় শৌর্যকে তাঁর মহানুভবতা, ক্ষমাধর্মের দ্বারা জয় করে একটি অক্ষয়কীর্তি রেখে যেতে চান। 



অনুশীলনী প্রশ্ন ও উত্তর এর জন্য পাঠ্য পুস্তক অনুসরণ করুন ।
কোনো প্রশ্ন উত্তর বুঝতে সমস্যা হলে কমেন্ট করে জানাবে সমাধান করে দেবো। 

Post a Comment

Previous Post Next Post