ভাষা ও ব্যাকরণ


 ভাষা , ধ্বনি, শব্দ ও বর্ণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা 



এখানে দেখা গেলো , খেলা দেখতে দেখতে সুজয় ও তার বোন কথা বলে মনের ভাব প্রকাশ করেছে । এই মনের ভাবকে মুখের কথায় প্রকাশ করাই হলো ভাষা

      
        আমরা আমাদের মনের ভাবকে মুখের কথায় অপরকে বুঝিয়ে বলি। এই মনের ভাব অথবা মুখের কথা অপরকে ঠিক - ঠিক ভাবে বুঝিয়ে বলার জন্যই ভাষার প্রয়োজন হয়। 

            আমরা কথা বলি মুখ দিয়ে। আর কথা বলতে গিয়ে মুখ দিয়ে যা বেরিয়ে আসে , তা হলো শব্দ বা আওয়াজ ।  
 
        এই শব্দ বা আওয়াজকেই এক কথায় বলা হয় ধ্বনি। 

কিন্তু যে কোনো আওয়াজ বা ধ্বনি মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলেও সেই আওয়াজের নির্দিষ্ট মানে বা অর্থ থাকতে হবে। তা না হলে সেই আওয়াজ কখনোই ভাষা হবে না। অর্থাৎ সেই আওয়াজ কোনো ভাবকে ঠিকঠাক প্রকাশ করলে বা বোঝাতে পারলে তবেই তা ভাষা হয়।   

ভাষা : -  যে শব্দ বা শব্দ গুচ্ছের দ্বারা আমরা আমাদের মনের ভাবকে সুন্দর ভাবে প্রকাশ করতে পারি, তাকে আমরা বলি ভাষা। 

      আদিম যুগের মানুষেরা কথা বলতে পারত না । তার গলা দিয়ে নানা রকম আওয়াজ বের করত। হাতের ইশারায় বা ইঙ্গিতে  সঙ্গী সাথীদের কাছে মনের ভাব প্রকাশ করত।  দূরের কাউকে কিছু বোঝানোর জন্য গাছের গুঁড়িতে বা বড় পাথরের গায়ে কিছু এঁকে রাখতো।  এই ভাবে মনের ভাবকে প্রকাশ করতে গাছের গুঁড়িতে বা পাথরের গায়ে আঁকিবুকি কাটতে কাটতেই সৃষ্টি হয়েছিল বর্ন -  এর। 
         
        মুখ দিয়ে উচ্চারণ করা ধ্বনি গুলি লিখতে গেলেই চিন্হ এর প্রয়োজন হয়। আর লিখিত চিন্হই হলো বর্ণ বা অক্ষর । 

বর্ণ :-  আমাদের মুখ দিয়ে বের হওয়া ধ্বনি গুলির লিখিত চিন্হই হলো বর্ন বা অক্ষর। 
   
    আজ থেকে প্রায় ছ - হাজার বছর আগে মিশর দেশের লোকেরা ছবি এঁকে বা চিত্রলিপির  সাহায্যে মনের ভাব প্রকাশ করত। ওই সময়ই মেসোপটেমিয়ার লোকরা গোঁজ বা কীলকের  সাহায্যে মুখের কথাকে লিখে রাখার  যে কৌশল প্রচলন করে তাকে বলে কীলক লিপি। ভারতবর্ষেও প্রায় পাঁচ হাজার বছর  আগে হরপ্পামহেন - জো - দারোর  সভ্য মানুষ এই লেখার কৌশল  বা লিপি ব্যবহার করত। 
 
     মানুষের মুখের ধ্বনি গুলিকে উচ্চারণ করতে গেলে মুখের কয়েকটি অংশ কাজে লাগাতে হয়। 
জিহ্বা (জিভ), কণ্ঠ (গলা) , তালু (টাকরা), মূর্ধা (তালুর উপরের অংশ), দন্ত (দাঁত), ওষ্ঠ ( ঠোঁট) এবং নাসিকা ( নাক), ইত্যাদির সাহায্য নিয়ে মানুষ কথা বলে । এদেরকে এক সঙ্গে বলা হয় বাগযন্ত্র বা কথা বলার যন্ত্র।
 
বোবাদের কোনো ভাষা নেই কারণ তাদের  বাগযন্ত্র ঠিঠাক ভাবে কাজ করে না । তাই তারা হাত - পা নেড়ে আকার - ইঙ্গিতে তাদের  মনের ভাব প্রকাশ করে। এই পৃথিবীতে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশী ভাষা প্রচলিত আছে। কিন্তু পৃথিবীর সমস্ত লোক একই ভাষায় কথা বলেন না । বিভিন্ন দেশের ভাষা বিভিন্ন । আমাদের এই ভারতের লোকেরাও বিভিন্ন প্রদেশের বিভিন্ন ভাষায় কথা বলেন ।
উত্তর প্রদেশ , বিহার , মধ্যপ্রদেশ প্রভৃতি রাজ্যের লোকেরা হিন্দী ভাষায় কথা বলেন। ওড়িশার লোকেরা কথা বলেন ওড়িয়া ভাষায় , অসমের লোকেরা কথা বলেন অসমীয়া ভাষায় । আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের অধিবাসীরা বাংলা ভাষায় কথা বলেন। তাই আমাদের মাতৃভাষা হলো বাংলা।  যে ভাষায় আমরা সাধারণত কথা বলি তাকে বলে কথ্য ভাষা  ।  আর যে ভাষায় আমরা লিখি তাকে বলে লেখ্য ভাষা। লেখ্য ভাষা বা লিখে প্রকাশ করার রীতি দুই প্রকারের । আমরা যে ভাষায় কথা বলি , সেই ভাষায় সরাসরি লিখলে তাকে বলে চলিত ভাষা।  আর সংস্কৃত থেকে সরাসরি আসা  ভাষাকে সাজিয়ে লেখা হয় সাধুভাষা। প্রত্যেকটি ভাষার নির্দিষ্ট কিছু নিয়কানুন আছে । যে বই পড়ে কোনো ভাষা শুদ্ধ ও অর্থপূর্ন ভাবে বলা  এবং লেখার নিয়ম যে বইতে লেখা থাকে তাকে বাংলা ব্যাকরন  বলে । বাঙালিদের মধ্যে প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন রাজা রাম মোহন রায় ।  তার মৃত্যুর পরে ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে বইটি প্রকাশিত হয়। 




























































আরো অধিক তথ্যের জন্য পেজটি রিফ্রেশ করতে থাকুন।  

1 Comments

Post a Comment

Previous Post Next Post