![]() |
| © Anupam Modak pics |
আজ থেকে শুরু করছি বাংলা ব্যাকরণ । চেষ্টা করছি তোমাদের পাশে থাকতে। ভালো লাগলে শেয়ার করে দিও ব্লগটি ।
ভাষার জন্মকথা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করছি।
আমাদের মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য আমরা কথা বলে থাকি। শুধু মানুষ কেন জীব জগতের অনেকেই আকার - ইঙ্গিত বা ধ্বনির সাহায্যে মনের ভাব প্রকাশ করে থাকে। এদের মধ্যে একমাত্র মানুষই তার মনের সুখ্যাতিসূক্ষ্ম , বহু বিচিত্র ভাবনা - চিন্তা গুলিকে সঠিক ভাবে ব্যক্ত বা প্রকাশ করতে পারে। আর যার সাহায্যে মানুষ তা ব্যক্ত বা প্রকাশ করে , তাকে বলে ভাষা।
কিন্তু মনের ভাব প্রকাশ করতে গিয়ে কেউ আধো - আধো অস্পষ্ট কিছু কথা উচ্চারণ করলো । অথচ তাঁর কোনো অর্থই বোঝা গেলো না। এই কথা গুলি ভাষা নয়। অর্থবোধক শব্দ হলো কথা। আর এই কথাই হলো মানুষের ভাষা। ভাষার সাহায্যে মানুষ কথা বলে , কিংবা লিখে মনের ভাব প্রকাশ করে।
ভাষা:- যে শব্দ বা শব্দ গুচ্ছের দ্বারা আমরা আমাদের মনের ভাবকে সুন্দর ভাবে প্রকাশ করতে পারি, তাকে আমরা বলি ভাষা।
বহুদিন পর্যন্ত ভাষা মুখে মুখে প্রচলিত ছিল। সেই জন্য সেই ভাষাকে বলা হয় মৌখিক বা কথ্য ভাষা। তারপর ধীরে ধীরে লেখার প্রয়োজন হলে , তখন তাকে বলা হয় লিখিত ভাষা বা লেখ্য ভাষা।
পৃথিবীতে কত দেশ। দেশে দেশে নানা ভাষার মানুষের বাস। গোষ্ঠী হলো দল, সমুহ বা কাজ । একই ধরনের জীবন যাত্রার ধারা মেনে ও একই ভাষায় কথা বলে এমন ছোট কিংবা বড়ো দল বা সমাজের মানুষ নিয়ে হয় এক - এক ভাষার জনগোষ্ঠী। যেমন আমরা বাঙালিরা প্রধানত পশ্চিমবঙ্গে , বাংলাদেশে ও ত্রিপুরায় বেশী সংখ্যায় বাস করি। জীবন যাত্রার ধারায় আমাদের মধ্যে অনেকেটাই মিল আছে এবং আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি। আমাদের নিয়ে যে জন গোষ্ঠী, তা বাঙালি জন গোষ্ঠী। ভারতে এ রকম ওড়িয়া, অসমীয়া,তামিল, তেলেগু প্রভৃতি বিভিন্ন জন গোষ্ঠী র বাস। প্রত্যেক জন গোষ্ঠীর ভাষা আলাদা। যেমন - ওড়িয়া জন গোষ্ঠীর ভাষা ওড়িয়া, তামিল জন গোষ্ঠীর ভাষা তামিল ইত্যাদি। আবার ভারতের বাইরে জাপানি জন গোষ্ঠীর ভাষা জাপানি, ইংরেজ জন গোষ্ঠীর ভাষা ইংরেজি।
বাঙালি শিশুরা জন্মের পর যে ভাষায় কথা বলে তার নাম বাংলা ভাষা । এই বাংলা ভাষা সংস্কৃত ভাষা থেকে সৃষ্টি হয়েছে। বাংলা ভাষাকে আবার কয়কটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
উপভাষা:- এক- এক অঞ্চলের বাঙালিদের মুখে এক- এক রকম বাংলা ভাষা শোনা যায়। এই আঞ্চলিক ভাষাকে বলা হয় উপভাষা।
সাধুভাষা :- যে ভাষা সংস্কৃত - ঘেঁষা এবং যে ভাষাতে ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের পূর্ন - রূপ বর্তমান, গুরু গম্ভীর সেই লেখ্য ভাষাকে সাধু ভাষা বলে। উদাহরণ - মানব পিতার সহিত কলিকাতায় গিয়েছিল।
চলিত ভাষা : যে সহজ, সরল ভাষায় মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করে থাকে, তারই লিখিত রূপ হলো চলিত ভাষা । চলিত ভাষায় ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করা হয় । উদাহরণ - মানব বাবার সঙ্গে কলকাতায় গিয়েছিল।
নিম্নে কিছু সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হলো । (তোমাদের সুবিধার্থে)
১) ভাষা কাকে বলে ?
= যে শব্দ বা শব্দ গুচ্ছের দ্বারা আমরা আমাদের মনের ভাবকে সুন্দর ভাবে প্রকাশ করতে পারি, তাকে আমরা বলি ভাষা।
২) কীভাবে ভাষা গড়ে উঠলো ?
= মানুষের ভাব বিনিময়ের প্রয়োজনে ভাষা গড়ে উঠলো ।
৩) কীভাবে আদিম মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করত ?
= আদিম মানুষ নানা রকম আওয়াজ ও আকার - ইঙ্গিতের মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করত।
৪) মাতৃভাষা কাকে বলে ?
= মানুষ যেখানে জন্মগ্রহণ করে এবং প্রথম থেকে যে ভাষায় কথা বলতে শেখে সেটাই তার মাতৃভাষা।
৫) আমাদের মাতৃভাষা কী ?
= আমাদের মাতৃভাষা বাংলা ।
৬) বাংলা ভাষা কাকে বলে?
= বাঙালি শিশুরা মায়ের কোলে থাকতে থাকতেই যে ভাষায় প্রথম কথা বলতে শুরু করে তাকে বাংলা ভাষা বলে।
ধন্যবাদ
আগামী পর্বে এই অধ্যায় এর উপর কিছু নমুনা প্রশ্ন দেওয়া হবে , আপনারা আমার এই ব্লগের সঙ্গে থাকবেন আশা রাখছি ।

Nice
ReplyDeleteVery nice
ReplyDeleteDarun
ReplyDeleteKhub bhalo
ReplyDeleteপাশে থাকবেন সকলে
ReplyDeletePost a Comment