পৃথিবীর অন্দরমহল






 সপ্তম শ্রেণীর ভূগোল // প্রথম অধ্যায় // পৃথিবীর অন্দরমহল থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর সাজেশন দেওয়া হল:

১. পৃথিবীর তিনটি প্রধান স্তর কি কি? তাদের সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ।

উত্তর: পৃথিবীর তিনটি প্রধান স্তর হল:

 * ভূত্বক (Crust): এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের স্তর। এটি কঠিন শিলা দিয়ে গঠিত।

 * গুরুমণ্ডল (Mantle): এটি ভূত্বকের নীচে অবস্থিত। এটি উত্তপ্ত, অর্ধ-কঠিন শিলা দিয়ে গঠিত।

 * কেন্দ্রমণ্ডল (Core): এটি পৃথিবীর কেন্দ্র। এটি প্রধানত লোহা এবং নিকেল দিয়ে গঠিত।

২. গুরুমণ্ডল কাকে বলে? এর বৈশিষ্ট্য লেখ।

উত্তর: ভূত্বকের নীচে এবং কেন্দ্রমণ্ডলের উপরে থাকা স্তরটি গুরুমণ্ডল নামে পরিচিত। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল:

 * এটি প্রায় ২,৯০০ কিলোমিটার পুরু।

 * এটি উত্তপ্ত, অর্ধ-কঠিন শিলা দিয়ে গঠিত।

 * এখানে পরিচলন স্রোতের কারণে ভূত্বকের প্লেটগুলি নড়াচড়া করে।

৩. কেন্দ্রমণ্ডল বলতে কী বোঝো? এর উপাদানগুলি কী কী?

উত্তর: পৃথিবীর কেন্দ্রটি কেন্দ্রমণ্ডল নামে পরিচিত। এটি প্রধানত লোহা এবং নিকেল দিয়ে গঠিত। এর দুটি অংশ রয়েছে:

 * বহিঃকেন্দ্র (Outer core): এটি তরল অবস্থায় থাকে।

 * অন্তঃকেন্দ্র (Inner core): এটি কঠিন অবস্থায় থাকে।

৪. ভূত্বক ও গুরুমণ্ডলের মধ্যে পার্থক্য লেখ।

উত্তর: ভূত্বক এবং গুরুমণ্ডলের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি হল:

 * ভূত্বক কঠিন শিলা দিয়ে গঠিত, কিন্তু গুরুমণ্ডল উত্তপ্ত, অর্ধ-কঠিন শিলা দিয়ে গঠিত।

 * ভূত্বক পৃথিবীর সবচেয়ে বাইরের স্তর, কিন্তু গুরুমণ্ডল ভূত্বকের নীচে অবস্থিত।

৫. সিয়াল ও সিমা বলতে কী বোঝ?

উত্তর: ভূত্বকের দুটি প্রধান অংশ হল সিয়াল এবং সিমা।

 * সিয়াল (Sial): এটি মহাদেশীয় ভূত্বকের প্রধান অংশ। এটি সিলিকা এবং অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে গঠিত।

 * সিমা (Sima): এটি মহাসাগরীয় ভূত্বকের প্রধান অংশ। এটি সিলিকা এবং ম্যাগনেসিয়াম দিয়ে গঠিত।

৬. বিযুক্তি রেখা কাকে বলে?

উত্তর: ভূগর্ভের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে যেখানে ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতিবেগের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, তাকে বিযুক্তি রেখা বলে।

৭. ম্যাগমা ও লাভার মধ্যে পার্থক্য লেখ।

উত্তর: ম্যাগমা ও লাভার মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো:

 * ভূগর্ভের গলিত উত্তপ্ত অর্ধতরল পদার্থকে ম্যাগমা বলে।

 * ভূগর্ভের গলিত উত্তপ্ত অর্ধতরল ম্যাগমা যখন ফাটল দিয়ে ভূপৃষ্ঠের বাইরে বেরিয়ে আসে তখন তাকে লাভা বলে।

৮. ভূতাপ শক্তি কাকে বলে? এর ব্যবহার লেখ।

উত্তর: ভূগর্ভের তাপ শক্তিকে ভূতাপ শক্তি বলে। এর ব্যবহার:

 * ভূতাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

 * অনেক দেশে ঘরবাড়ি গরম রাখতে এই শক্তি ব্যবহার করা হয়।

৯. পৃথিবীর অভ্যন্তরে চাপ ও তাপ বেশি হওয়ার কারণ কী?

উত্তর: পৃথিবীর অভ্যন্তরে চাপ ও তাপ বেশি হওয়ার প্রধান কারণ হল:

 * পৃথিবীর অভ্যন্তরের ভারী উপাদানগুলির চাপ।

 * তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি।

১০. ভূমিকম্পের তরঙ্গ কীভাবে পৃথিবীর অভ্যন্তরের গঠন বুঝতে সাহায্য করে?

উত্তর: ভূমিকম্পের তরঙ্গগুলি পৃথিবীর বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের গতি পরিবর্তন করে। এই গতি পরিবর্তনের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্তরের গঠন এবং উপাদান সম্পর্কে ধারণা পান।


Post a Comment

Previous Post Next Post