৪) ঘ) ভারতে ব্রিটিশ কোম্পানির আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি থেকে স্বত্ববিলোপ নীতিতে বিবর্তন কীভাবে ব্যাখ্যা করবে?

ভারতে ব্রিটিশ কোম্পানির আধিপত্য বিস্তারের ক্ষেত্রে অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি থেকে স্বত্ববিলোপ নীতিতে বিবর্তনের ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

 * অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি: লর্ড ওয়েলেসলি এই নীতি প্রবর্তন করেন। এই নীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশীয় রাজ্যগুলিকে ব্রিটিশ কোম্পানির অধীনে নিয়ে আসা। এই নীতির অধীনে, দেশীয় রাজাদের ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ভরণপোষণ করতে হতো এবং কোম্পানির অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো রাজ্যের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারতেন না।

 * স্বত্ববিলোপ নীতি: লর্ড ডালহৌসি এই নীতি প্রবর্তন করেন। এই নীতির অধীনে, কোনো দেশীয় রাজার যদি নিজস্ব উত্তরাধিকারী না থাকত, তবে সেই রাজ্য ব্রিটিশ কোম্পানির অধীনে চলে যেত। এই নীতির মাধ্যমে, কোম্পানি অনেক রাজ্য দখল করে নেয়, যেমন সাতারা, ঝাঁসি এবং নাগপুর।

অধীনতামূলক মিত্রতার নীতি দেশীয় রাজ্যগুলিকে ব্রিটিশ কোম্পানির অধীনে নিয়ে আসার একটি ধাপ ছিল। এই নীতির মাধ্যমে কোম্পানি দেশীয় রাজ্যগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। পরে, স্বত্ববিলোপ নীতির মাধ্যমে কোম্পানি আরও বেশি রাজ্য দখল করে নেয় এবং তাদের আধিপত্য বিস্তার করে।

ঙ) মুর্শিদকুলি খান ও আলিবর্দি খান-এর সময়ে বাংলার সঙ্গে মুঘল শাসনের সম্পর্কের চরিত্র কেমন ছিল?

মুর্শিদকুলি খান ও আলিবর্দি খানের সময়ে বাংলার সঙ্গে মুঘল শাসনের সম্পর্কের চরিত্র ছিল কিছুটা জটিল। এই সময়ে, বাংলা কার্যত স্বাধীন হয়ে ওঠে, কিন্তু মুঘল সম্রাটকে কর দেওয়া হতো।

 * মুর্শিদকুলি খান: মুর্শিদকুলি খান বাংলার দেওয়ান হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি বাংলার রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কার করেন এবং মুঘল সম্রাটকে নিয়মিত কর পাঠাতেন। কিন্তু তিনি বাংলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মুঘলদের হস্তক্ষেপ করতে দিতেন না।

 * আলিবর্দি খান: আলিবর্দি খানের সময়ে, বাংলা আরও বেশি স্বাধীন হয়ে ওঠে। তিনি মুঘল সম্রাটকে নিয়মিত কর দিতেন, কিন্তু মুঘলদের কোনো নির্দেশ মানতেন না। তিনি বাংলার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি নিজেই নির্ধারণ করতেন।

এই সময়ে, বাংলা মুঘল শাসনের অধীনে থাকলেও কার্যত স্বাধীন ছিল। বাংলার নবাবরা তাদের নিজস্ব নীতি অনুসরণ করতেন এবং মুঘলদের হস্তক্ষেপ করতে দিতেন না।

৫) কল্পনা করে লেখো (২০০ টি শব্দের মধ্যে):

ক) ধরো তুমি নবাব আলিবর্দি খান-এর আমলে বাংলার একজন সাধারণ মানুষ। তোমার এলাকায় বর্গি আক্রমণ হয়েছিল। তোমার ও তোমার প্রতিবেশীর মধ্যে বর্গিহানার অভিজ্ঞতা বিষয়ে একটি কথোপকথন লেখো।

আমি: কাকা, কী ভয়ংকর দিন গেল! বর্গিরা সব লুটপাট করে নিয়ে গেল। আমাদের ঘরবাড়িও ভাঙচুর করেছে।

কাকা: আর বলিস না! এমন অত্যাচার আগে কখনও দেখিনি। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিল ওরা। কত মানুষ যে মারা গেল, তার হিসেব নেই।

আমি: আমাদের ক্ষেতের ফসলও সব নষ্ট করে দিয়েছে। এখন আমরা কী খাব?

কাকা: জানি না বাবা। আলিবর্দি খান যদি তাড়াতাড়ি ওদের না তাড়ান, তাহলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।

আমি: শুনেছি, নবাব নাকি ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। কিন্তু ওরা তো থামার নামই নিচ্ছে না।

কাকা: ভগবানই ভরসা! আর তো কিছু করার নেই।

খ) ধরো তুমি ব্রিটিশ কোম্পানির একজন কর্তাব্যক্তি। '৭৬-এর মন্বন্তর-এর সময় তুমি বাংলায় ঘুরলে তোমার কী ধরনের অভিজ্ঞতা হবে? মন্বন্তরের সময়ে মানুষকে সাহায্যের জন্য কোম্পানিকে কী কী করতে পরামর্শ দেবে তুমি?

'৭৬-এর মন্বন্তরের সময় বাংলায় ঘুরে আমি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করতাম, তা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। চারদিকে শুধু মৃত্যু আর ধ্বংসের চিহ্ন। মানুষ খাদ্যের অভাবে ধুঁকছে, রাস্তায় পড়ে আছে মৃতদেহ। গ্রামের পর গ্রাম জনশূন্য হয়ে গেছে।

এই মন্বন্তরের সময়ে মানুষকে সাহায্যের জন্য আমি কোম্পানিকে নিম্নলিখিত পরামর্শ দিতাম:

 * অবিলম্বে খাদ্য সরবরাহ করা।

 * কৃষকদের ঋণ মকুব করা এবং বীজ ও সার সরবরাহ করা।

 * কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে মানুষ খাদ্য কিনতে পারে।

 * দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন মন্বন্তর না হয়।

এই মন্বন্তর ছিল কোম্পানির চরম ব্যর্থতা। তারা যদি সময়মতো ব্যবস্থা নিত, তাহলে এত মানুষের মৃত্যু হতো না।

এই উত্তরগুলি আপনা

র জন্য সহায়ক হবে আশা করি।

Post a Comment

Previous Post Next Post