পথের পাঁচালী



 পথের পাঁচালী বইয়ের অনুশীলনী প্রশ্নের উত্তর। 

১. অতি সংক্ষেপে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

১.১ কুঠির মাঠ দেখতে যাবার পথে কী দেখে অপু সব থেকে বেশি অবাক হয়েছিল?

উঃ। কুঠির মাঠ দেখতে যাবার পথে বড়ো বড়ো কানওয়ালা জীবন্ত খরগোশ দেখে অপু সব থেকে বেশি অবাক হয়েছিল।

১.২ আলকুশি কী ?
উঃ। আলকুশি হলো জঙ্গলের একটি বিষাক্ত ফল। যার আঠা হাতে লাগলে সেই জায়গা জ্বালা করে এবং চুলকে ফুলে যায়।

১.৩ ‘এই দ্যাখো মা আমার সেই মালাটা'—কে কখন এই কথা বলেছে?
উঃ। কথাটি বলেছে ভুবন মুখার্জির বাড়ির সেজোবউ-এর মেয়ে টুনু। অপুদের বাড়িতে এসে সে যখন দুর্গার খেলা করার বাক্সটি খুলেছিল তার মধ্যে পুতুলের জন্য পুঁতির একটি মালা ছিল। তখন টুনু মালাটা বের করে এনে এই কথাটি বলেছে

১.৪ অপু কার পাঠশালায় পড়তে গিয়েছিল? গুরুমশাই পড়ানোর পাশাপাশি আর কোন্ কাজ করতেন?
উঃ। অপু গ্রামের একমাত্র গুরুমশাই প্রসন্নবাবুর পাঠশালায় পড়তে গিয়েছিল।
গুরুমশাই পড়ানোর পাশাপাশি একখানি মুদির দোকান চালাতেন।

১.৫ পাঠশালা কখন বসতো? কজন ছাত্রছাত্রী ছিল?
উঃ। পাঠশালা বসত বিকালে। সবসুদ্ধ মোট আট দশজন ছাত্রছাত্রী পাঠশালায় ছিল।

১.৬ আতুরি ডাইনি কে? বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার সম্পর্কে অপুর ধারণা বদলে গেল কীভাবে?

উঃ। আতুরি ডাইনি অপুর গ্রামে থাকা এক অসহায়, গরিব বৃদ্ধা। গ্রামের লোকের ধারণা ছিল সেই বুড়ি নাকি বাচ্চাদের মেরে কচুপাতায় প্রাণ পুরে জলে ডুবিয়ে রাখে। এছাড়াও সবাই জানত সে ইচ্ছে করলেই ছোটো ছেলেদের রক্ত চোখের দৃষ্টি দিয়েই শুষে নিতে পারে। বড়ো হওয়ার পর অপু তাকে হাটে আমচুর বিক্রি করতে দেখেছিল একদিন। বুড়িটি ছিল একা। তার কোনো ছেলেমেয়ে ছিল না। আমচুর বিক্রি করে তার দিন কাটত। মরার সময় তাকে পোড়ানোরও কেউ ছিল না। এইসব ঘটনা থেকেই আতুরি
ডাইনির সম্পর্কে অপুর ধারণা বদলে গিয়েছিল।

১.৭ লক্ষ্মণ মহাজনের বাড়ি থেকে ফিরে এসে অপু যে আশ্চর্য ভ্রমণকাহিনি শুনিয়েছিল তা লেখো।
উঃ। লক্ষ্মণ মহাজনের বাড়ি থেকে ফিরে এসে অপু পনেরো দিন ধরে নিজের অদ্ভুত গল্পের ভ্রমণকাহিনি বলে বেড়িয়েছিল। সে ওই কয়েকদিন নানা আশ্চর্য জিনিস দেখেছে। রেলের রাস্তা, যেখানে দিয়ে সত্যিকারের রেলগাড়ি যায়। মাটির আতা,পেঁপে, শশা—অবিকল সত্যিকারের ফলের মতো। এক ধরনের পুতুলটার কথাও সে বলে যার পেট টিপলে মৃগি রোগীর মতো হাত-পা ছুঁড়ে হঠাৎ খঞ্জনি বাজাতে শুরু করে।অপু অনেক দূর পথ গিয়েছিল কত পদ্মফুলে ভরা বিল; অচেনা কত নতুন গাঁ। কত দূর দিগন্ত পথ। নির্জন পথে পাশ দিয়ে সেখানে যেতে হয়। কোনো একটি গ্রামের পাশে কামারের দোকান যেখানে অপুকে জল খাওয়ানোর জন্য তার বাবা নিয়ে গিয়েছিল।তারা অতি যত্ন সহকারে ভিতরে ডেকে দুধ, চিঁড়ে, বাতাসা খেতে দিয়েছিল। এসব গল্পই সে মা ও দিদিকে শুনিয়েছিল।

Post a Comment

Previous Post Next Post