ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: এক আধুনিক মনের দিশারী
আজ ২৯শে জুলাই, এক অসাধারণ ব্যক্তিত্বের প্রয়াণ দিবস। তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ১৮২০ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করা এই মানুষটি কেবল একজন পণ্ডিত বা সমাজ সংস্কারক ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক আধুনিক মনের অধিকারী, যিনি কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজে বিজ্ঞানের আলো জ্বেলেছিলেন।
বিদ্যাসাগরের নাম শুনলেই প্রথমে আমাদের মনে আসে তাঁর অদম্য জেদ আর কঠোর পরিশ্রমের কথা। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে তিনি কীভাবে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন, সেই গল্প আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তবে তাঁর অবদান শুধু পড়াশোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি বুঝেছিলেন, সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে নারীশিক্ষার প্রসার জরুরি। সেই সময়ে যখন মেয়েদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে নানা বাধা ছিল, তখন তিনি অদম্য সাহসে বহু বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। তাঁর উদ্যোগে বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়েছিল, যা ছিল সমাজে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
বিদ্যাসাগর ছিলেন একজন বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ। তাঁর চিন্তা-ভাবনা ছিল যুক্তিনির্ভর। তিনি কোনো কিছু অন্ধভাবে বিশ্বাস করতেন না, বরং যুক্তি ও প্রমাণ দিয়ে বিচার করতেন। সমাজের প্রচলিত নানা কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি যুক্তি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি মানুষকে বুঝিয়েছিলেন যে, প্রকৃত জ্ঞান কেবল পুঁথিগত নয়, বরং তা আসে যুক্তিনির্ভর চিন্তা এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। তাঁর লেখা সরল বাংলা ভাষার বইগুলো সাধারণ মানুষের কাছে জ্ঞানকে সহজলভ্য করে তুলেছিল।
বিদ্যাসাগর শুধু নারীশিক্ষা বা বিধবা বিবাহের সমর্থকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের মানবতাবাদী। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল তাঁর স্বভাব। নিজের আয়ের একটা বড় অংশ তিনি আর্তদের সেবায় ব্যয় করতেন। তাঁর জীবন ছিল আত্মত্যাগ আর পরোপকারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে আমরা এই মহান মানুষটিকে স্মরণ করছি। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর কাজ, তাঁর চিন্তা এবং তাঁর বিজ্ঞানমনস্কতার মধ্য দিয়ে আজও আমাদের সমাজে প্রাসঙ্গিক। তিনি দেখিয়ে গেছেন, কীভাবে একজন ব্যক্তি নিজের জ্ঞান, বুদ্ধি আর সাহসের জোরে একটি সমাজের চেহারা পাল্টে দিতে পারেন। তাঁর আদর্শ আজও আমাদের পথ দেখায় এক উন্নত, যুক্তিবাদী ও মানবিক সমাজ গঠনের
দিকে।
লেখায় - অনুপম মোদক
তথ্য সংগ্রহ - উইকিপিডিয়া
.webp)
Post a Comment