সাড়ম্বরে পালিত হলো বিদ্যাসাগর জয়ন্তী, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতনতার বার্তা।
কাশেম বাজার, ২৭ সেপ্টেম্বর: সমাজ সংস্কারক পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৬ তম জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল, ২৬ সেপ্টেম্বর, সাড়ম্বরে পালিত হলো বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথম খন্ড খন্ড লাঙ্গুলিয়া কাশেম বাজার, ঘাটপার নিগমনগরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অবৈতনিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিদ্যাসাগর কোচিং সেন্টার।
বিদ্যাসাগরের জীবন ও কর্মকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এদিন মূল আকর্ষণ ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা বিধবার প্রতীকী সাজ এবং একটি সুসজ্জিত শোভাযাত্রা। এই শোভাযাত্রা ও প্রতীকী সজ্জার মাধ্যমে সমাজে বিধবাদের প্রতি হওয়া তৎকালীন নির্মম আচরণের চিত্র তুলে ধরা হয়, যা দর্শকদের বিশেষভাবে নাড়া দেয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে ছিল সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি এবং সমাজের উপর ঘটে চলা কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক নানা পরিবেশনা।
উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক, সমাজসেবী ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবীরা, যারা সমাজ গঠনে বিদ্যাসাগরের আদর্শের গুরুত্ব তুলে ধরেন। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সঞ্চয়িতা সাহা, তপন বর্মন, নিটন কুমার রায়, আশিক বর্মন, অমিত কুন্ডু, রাহুল অধিকারী, গৌরব সাহা, জয়দীপ রায় এবং দধিমঙ্গল সরকার। প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে বিধান বর্মন, রবিজিত বর্মন, দ্বীপ চক্রবর্ত্তী সহ আরও অনেকে এই মহতী আয়োজনে সামিল হন।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে পরিচালনা করে বিদ্যাসাগর কোচিং সেন্টারের সাংস্কৃতিক কমিটি। এই আয়োজনের নেপথ্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন শঙ্খশুভ্র সরকার, সন্দীপন দাস, সুমন বর্মন এবং বিশ্বজিত সাহা, দ্বীপ সাহা।
ফাউন্ডার ও প্রিন্সিপালের বার্তা
এই বিশেষ দিনে প্রতিষ্ঠানের ফাউন্ডার ও কো-ফাউন্ডার সঞ্জীব কর্মকার ও সৌরভ সাহা বলেন,
> "পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে শুধুমাত্র বইয়ের পাতায় নয়, তাঁর আদর্শকে আমরা বর্তমান সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। বিশেষত বিধবা বিবাহ প্রবর্তন থেকে শুরু করে নারীশিক্ষার প্রসার—তাঁর প্রতিটি কাজ আমাদের দেখায় কীভাবে সমাজকে কুসংস্কারের অন্ধকার থেকে বের করে আনা যায়। আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা আজ প্রতীকী সজ্জার মাধ্যমে সেই বার্তাটিই সকলের সামনে তুলে ধরল।"
অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে বিদ্যাসাগর কোচিং সেন্টারের প্রিন্সিপাল দীপক পাল বলেন,
"বিদ্যাসাগরের জীবন আমাদের শেখায়, শুধুমাত্র লেখাপড়া নয়, নৈতিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতাও সমান জরুরি। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হোক। এই ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলি তাদের মনে সেই চেতনার বীজ রোপণ করতে সাহায্য করে। এই সাড়ম্বর আয়োজন নিঃসন্দেহে সফল হয়েছে।"
ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং এলাকার বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে সমগ্র অনুষ্ঠানটি এক ভিন্ন মাত্রা লাভ করে এবং সমাজের প্রতি বিদ্যাসাগরের অবদানকে আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়।



Post a Comment